বুধবার, ২৪ Jun ২০২৬, ০৮:২১ পূর্বাহ্ন

নোটিশঃ-
রাজৈর নিউজ অনলাইন পত্রিকার পক্ষ থেকে আপনাদের স্বাগতম। নিত্যনতুন সকল সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন।ফেসবুক পেইজ থেকে আমাদের নিউজে চোখ রাখুন:- https://www.facebook.com/rajoirnews  তাছাড়া সংবাদ এর ভিডিও দেখুন ইউটিউব থেকে  BanglaNews Tube
সর্বশেষ সংবাদঃ-
রাজৈরে বিশ্ব রক্তদাতা দিবসে র‍্যালি, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ রাজৈরে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বারসহ আওয়ামীলীগের শতাধিক নেতাকর্মীর বিএনপিতে যোগদান রাজৈরে ঐতিহ্যবাহী সেন্দিয়া কুম্ভের মেলা বন্ধের প্রতিবাদে মানববন্ধন মাদারীপুরের কদমবাড়ী কুম্ভমেলায় ভক্ত সংঘের আয়োজনে বিনা মূল্যে স্বাস্থ্যসেবা ক্যাম্পের প্রশংসায় আগত ভক্তবৃন্দ লন্ডনের কাউন্সিল রিপন শেখকে সংর্বধনা এমপি, বন্ধুমহল ও এলাবাসী রাজৈরের টেকেরহাট গরুর হাট পরিদর্শনে র‍্যাব-৮, চাঁদাবাজি ও জাল টাকা প্রতিরোধে কঠোর অবস্থান টেকেরহাট বন্দরে উত্তরা ব্যাংক এর সিআরএম বুথের উদ্বোধন মৃত্যু হলেও মাদক-চাঁদাবাজ-ভূমিদস্যুসহ সকল অপরাধ নির্মূল করবো: এমপি জাহান্দার আলী ইশিবপুরে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত, বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ বিতরণ যুক্তরাজ্যে কাউন্সিলর নির্বাচনে আমাদের রাজৈর-মাদারীপুরের গর্ব শেখ রিপন
৭৮ দিন পর তিউনিশিয়ার ভূমধ্যসাগরে নিহত ৮ বাংলাদেশির লাশ দেশে ফিরেছে, রাজৈর ও মুকসুদপুরে নিজ নিজ বাড়িতে দাফন সম্পন্ন

৭৮ দিন পর তিউনিশিয়ার ভূমধ্যসাগরে নিহত ৮ বাংলাদেশির লাশ দেশে ফিরেছে, রাজৈর ও মুকসুদপুরে নিজ নিজ বাড়িতে দাফন সম্পন্ন

0

বিনয় জোয়ারদারঃ তিউনিসিয়া থেকে ৭৮ দিন পর দেশে এসেছে ৮ বাংলাদেশির লাশ। বৃহস্পতিবার দুপুরে তাদের কফিন ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে পৌছে। বিমান বন্দর থানায় মামলা থাকায় লাশগুলো ময়না তদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে নিয়ে যাওয়া হয়। ময়না তদন্ত শেষে শুক্রবার বিকালে ৮টি লাশের কফিন স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয় । শুক্রবার সন্ধ্যায় মাদারীপুর জেলার রাজৈর ও গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার নিজ নিজ বাড়িতে কফিন পৌছলে পরিবার, প্রতিবেশী ও স্বজনদের মাঝে শুরু হয় শোকের মাতম। এলাকার শত শত শোকাহত স্বজনরা নিহতদের এক নজর দেখার জন্য তাদের বাড়িতে ভিড় জমায় । পরে ধর্মীয় রীতি শেষে ৮ জনের লাশ দাফন করা হয়। বৃহস্পতিবার লাশ আসার খবরে রাজৈর ও মুকসুদপুরের গ্রামে গ্রামে শুরু হয় দাফনের প্রস্তুতি। কবর খোড়াসহ সকল প্রস্তুতি নেয় পরিবারের স্বজনেরা।

স্বজনরা জানান, চলতি বছর ১৪ জানুয়ারি মাদারীপুরের রাজৈর ও মুকসুদপুরের বেশ কয়েকজন যুবক ইতালির উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়। এক মাস পরে ১৪ ফেব্রুয়ারি দালালরা বিভিন্ন দেশের ৫২ যুবককে লিবিয়া থেকে ইতালীর উদ্দেশ্যে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকায় তুলে দেয়। তিউনিসিয়ার উপকূলে ভুমধ্যসাগরে নৌকার ইঞ্জিন ফেটে আগুন ধরে যায়। ওই সময় ভুমধ্যসাগরে ডুবে যায় নৌকাটি। এতে ৯ যুবক নিহত হয়। নিহতরা হলেন, রাজৈর উপজেলার বাজিতপুর ইউনিয়নের কোদালিয়া গ্রামের মিজানুর রহমান কাজীর ছেলে সজীব কাজী (১৯), খালিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম স্বরমঙ্গল গ্রামের ইউসুফ আলী শেখের ছেলে মামুন শেখ (২২), একই ইউনিয়নের সেনদিয়ার গ্রামের সুনীল বৈরাগীর ছেলে সজল বৈরাগী (২২), কদমবাড়ির ইউনিয়নের উত্তরপাড়া গ্রামের পরিতোষ বিশ্বাসের ছেলে নয়ন বিশ্বাস (২৪), কবিরাজপুর ইউনিয়নের কেশরদিয়া গ্রামের কাওসার হোসেন (২২) এবং গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার রাঘদি ইউয়িনের বড়দিয়া গ্রামের দাদন মিয়ার ছেলে রিফাদ (২১), দিগনগর ইউনিয়নের ফতেহপট্টি এলাকার মো. রাসেল (২০) ও গয়লাকান্দি গ্রামের পান্নু শেখের ছেলে ইমরুল কায়েস আপন (২২)। দুর্ঘটনায় আরো এক পাকিস্তানী যুবক মারা যায়। তিউনিশিয়ার উপকুল থেকে ৪৪ জনকে জীবিত উদ্ধার করে সে দেশের কোস্টগার্ড। এদের মধ্যে ২৭জন বাংলাদেশি, ৮জন পাকিস্তানী, ৫জন সিরিয়ার ও ৪জন মিসরের।

দুর্ঘটনার পর বাংলাদেশ দূতাবাস, লিবিয়ার একটি প্রতিনিধি দল তিউনিসিয়ার জারবা ও গ্যাবেস হাসপাতালের মর্গে অজ্ঞাত পরিচয়ে সংরক্ষিত সকল মৃতদেহ পরিদর্শন করেন। এরপর বর্ণিত দুর্ঘটনায় জীবিত অবস্থায় উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশিদের সহায়তায় মৃত ৮জন বাংলাদেশি নাগরিকের ছবি এবং প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করে বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। পরবর্তীতে দূতাবাস হতে নিহত বাংলাদেশিদের অনুকূলে ট্রাভেল পারমিট (আউটপাস) ইস্যু করে মৃতদেহগুলো দেশে প্রেরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ লক্ষ্যে দূতাবাস হতে তিউনিসিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইন মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় নগর কর্তৃপক্ষের সাথে নিরলসভাবে কাজ করে পর্যায়ক্রমে মৃতদেহ সমূহের সুরতহাল, মৃত্যু সনদ এবং মেডিকেল সার্টিফিকেট ইস্যুসহ অন্যান্য সকল দাপ্তরিক কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়।

দূতাবাসের দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর মৃত্যুবরণকারী ৮জন বাাংলাদেশি নাগরিকের মৃতদেহ দেশে প্রেরণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। সকল কার্যক্রম সম্পন্নের পর ৩০ এপ্রিল মৃতদেহগুলো দেশে প্রেরণের জন্য তিউনিসিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের নিকট হস্তান্তর করা হয়। এসময় তিউনিসিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের অনাবাসিক রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মুহাম্মাদ খায়রুল বাশার এবং দূতাবাসের মিনিস্টার (শ্রম) গাজী মো: আসাদুজ্জামান কবির উপস্থিত ছিলেন। মৃতদেহগুলো সৌদি এয়ারলাইনসের ৮০৮ ফ্লাইটে বৃহস্পতিবার (২মে) দুপুরে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায় বলে ঢাকায় অবস্থানরত নিহত মামুনের বড় ভাই সজিব শেখ জানান। মৃতদেহগুলো দেশে প্রেরণের জন্য দূতাবাসের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করা হয়। এ পরিপ্রেক্ষিতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় হতে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ পাওয়ার পর দূতাবাসের পক্ষে মৃতদেহগুলো দেশে প্রেরণ করা সম্ভব হয়েছে।

Comments

comments

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply




উন্নয়ন সহযোগীতায়ঃ- সেভেন ইনফো টেক